একটা বোকা ভোঁতা সময়
এক-একটা সময় সকল কথা ফুরিয়ে আসে। কোনও কথা বলতে ইচ্ছে করে না, শুধু চোখের সামনে একটা বই টেনে উপুড় হয়ে অর্থহীন অক্ষরের পর অক্ষর পার হয়ে যাই। অথবা মনের থেকে একটু দূরে বনের ধারে আবাদের মানুষজনের কথা ভাবি, অথবা আরও দূরের কোনও আদিবাসী পাড়া। যেখানে রোমহর্ষক পুলিশী অভিযান চলছে, চলবে। আকাশে ইয়াত্তোবড় থালার মতো চাঁদ ঘুরবে, মাইকেল জ্যাক্সনের টেকো ভূতের মতো মুনওয়াক করে রাস্তার ধারে ওয়াক ওয়াক করে বমি করবে জনৈক দেড়েল মিডিয়াওয়ালা।
তুমি ভাববে বাচ্চাদের খাবার জিনিষ, পাইকারি ওষুধ, ত্রিপল, সস্তায় কেনা জামাকাপড়, স্লেট, পেন্সিল, খাতা কেনার হিসাব। গঞ্জের দোকানে দরাদরি করে কেনা কয়েক কুইন্টাল মোটা চাল যা পরিবার-পিছু পাঁচ কিলো বা দুই কিলো করে বিলি করতে করতে কান্না পাবে, তারপর আকাশের দিকে মুখ তুলে কারণছাড়া খিস্তি করবে। দেখবে নিষ্পৃহ শহরের নিওন আলোয় কমবখত্ ঈশক্, সামুদ্রিক প্লাবনে ভেসে যাওয়া দ্বীপগুলোর থেকে অনেক বড় এক নিঃসঙ্গ দ্বীপ, যেখানে রাত কাটাতে আসবে না আর বেয়াড়া স্বপ্নগুলো।
অথচ তুমি জানো এটা একটা বোকা ভোঁতা সময়। তুমি যা-ই করো, যাই লেখো, কারও ভাঙ্গা ঘর ভাঙ্গা মন জুড়ে দিতে পারবে না। “কারা মোর ঘর ভেঙ্গেছে স্মরণ আছে” কোন শালা এখনও গায়, ক্রমশ ভুলে যাবে তুমিও হতচ্ছাড়া। ঝড়ের দেড় মাস পরে নোনা জলের পচনে আড়াই মাসের বাচ্চার দেহের একগাদা ক্ষত দেখবে, দেখবে নদীর ধারে ক্লান্ত বৃদ্ধার একলা বসে থাকা। বিষাদে বিষাদে ঘন হবে মেঘ। “এখানে জীবন মানেই মৃত্যু, যন্ত্রণা গিলে ফেলা।”
Comments
Post a Comment