অজর
জানো, তারও মেসের চলটা-ওঠা দেওয়ালে তুলির টানে লেখা ছিলঃ
In each of us a child has lived and a child has died,
— a child of promise, who never grew up.
তখনও ভাবেনি সে একদিন হঠাৎ করেই বড় হতে হবে।
তিনটে টিনের ট্রাঙ্কে বন্দি থাকবে না অ-লেখা পান্ডুলিপি, কারণ কবিতা পড়া বহুদিন আগে সে ছেড়ে দিয়েছে, লেখা তারও আগে।
এই মুহূর্তে গুনে দেখলে মাথায় সাতখানা শনের মতো পাকা চুল দেখা যাচ্ছে, চশমার কোণে ঘাম, তবু লেখার ইচ্ছে এমন বেয়াড়া, বাঁচার ইচ্ছে এমন বেয়াড়া!
পারিপার্শ্বিক দৃশ্যময়তার মাঝে অদৃশ্য থেকে যাবে মন, হরপ্পার নর্তকীর গ্রীবার মতো অবোধ্য হবে উচ্চারণ। গ্রামাফোন রেকর্ডে কলের গানের পেতলের চোঙার পাশে অবুঝ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতে থাকতে হাঁপিয়ে উঠবে একটি প্রাচীন কুকুর যে ব্যাবিলনে ভোরাই শুনতে ভালবাসতো।
এক অসংগত ভোরের আলোয় ক্ষুদ্র ভবিষ্যতেরা কিলবিল করে উঠবে ধূলোকণার মতো, গোপনে শহর দেখাবে তার ইঁট-পাঁজর, কলজের ওঠানামা, প্রাসাদ, পাকাবাড়ি, ইমারতের পলেস্তর পড়বে খসে, তলহীন সপ্তম অতলের অতথ্য পাতাল ঠেলে উঠে আসবে ঘামে-ভেজা রেল।
মানুষ করবে ব্যস্ততার সন্ধান, সত্যি কিংবা মিছিমিছি, অসংখ্য, দেদার, অপরিমিত সুখ বেঁচে থাকায়, অথবা জরাগ্রস্থ নয় এমন জীবন।
Comments
Post a Comment